শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
শ্রীলঙ্কায় টাইগারদের ইতিহাস গড়া জয়, প্রেমাদাসায় লঙ্কা জ্বলল!
অনলাইন ডেস্ক
জয় নিশ্চিত হতেই উদ্দীপনায় বাতাসে ঘুষির ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রেমাদাসায় জড়ো হওয়া ৩৫ হাজার দর্শক তখন নির্বাক। ব্যাটে তানজিদের দাপটে যেন নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিল গোটা গ্যালারি। তার ব্যাটে আছড়ে পড়া একেকটা ছক্কা যেন লঙ্কান দর্শকদের হৃদয়ে ছুরি চালিয়ে দিচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এমন আগ্রাসী ব্যাটিং—এ যেন স্বপ্নও নয়, অলৌকিক বাস্তবতা।
আগের দুই সিরিজ হারের যন্ত্রণায় পোড়া বাংলাদেশের জন্য এটা যেন সান্তনার প্রলেপ। আর একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় কখনও না জেতার আক্ষেপও ঘুচিয়ে দিল লিটনরা। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এবারই প্রথম শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের। ২-১ ব্যবধানে লঙ্কানদের হারিয়ে দারুণ স্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরছে টাইগাররা। এটি বাংলাদেশের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
কথায় আছে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। বাংলাদেশ দলের শেষটা রঙিন হলেও পুরো সফরটা একরকম বর্ণহীনই ছিল। টেস্ট সিরিজে প্রতিশ্রুতিশীল শুরু করেও হার ১-০ তে। ওয়ানডেতে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও সিরিজ হার ২-১। তবে শেষ মুহূর্তে এসে টি-টোয়েন্টিতে ২১ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় সত্যিই স্বস্তির। লঙ্কানদের ১৩৩ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে যান লিটনরা।
ম্যাচের ঘণ্টাখানেক আগেই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের চারপাশ ঘিরে নেয় ট্রাফিক পুলিশ। বিক্রি হয়ে যাওয়া সব টিকিটের চাপ পড়ে পুরো কলম্বো শহরের উপর। সন্ধ্যা নামার আগেই গ্যালারিতে সিট ফাঁকা রাখার সুযোগ ছিল না একেবারেই। সারি সারি লাইন ধরে স্টেডিয়ামে ঢুকছিল সমর্থকেরা। এক লঙ্কান সাংবাদিক বললেন, ‘সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ বলে আজ গ্যালারি ভরবে—টসের আগেই সেটা বোঝা যাবে।’ কথাটা ভুল ছিল না একটুও।
প্রেমাদাসা যেন বাংলাদেশকে বিশেষ কিছু দেয় সবসময়। গতকাল পর্যন্ত এখানে খেলা পাঁচ টি-টোয়েন্টির চারটিতেই জয় টাইগারদের। তবে টস ভাগ্য বদলায়নি—নবমবারের মতো টসে হেরে শুরু লিটনের। তবে ম্যাচ ভাগ্য ফিরিয়ে আনেন শেখ মেহেদী হাসান। একাদশে ফিরেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের অসহায় করে তুলেন স্পিন বিষে। মিরাজের জায়গা হারিয়েও ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট—এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা। শরিফুল ইসলামের শেষ ওভারে ২২ রান দিলেও তা হয়ে যায় অকিঞ্চিৎকর।
ব্যাট হাতে শুরুটা হতাশাজনক। ইনিংসের প্রথম বলেই আম্পায়ার্স কলে ফেরেন পারভেজ ইমন। গ্যালারিতে তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে লঙ্কান সমর্থকেরা। কিন্তু এর পরের দৃশ্য তাদের দুঃস্বপ্নেও ছিল না। লিটন-তানজিদ জুটি ৭৪ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। লিটন ৩২ রানে ফিরে গেলেও হৃদয় পরিস্থিতি ধরে রাখেন আর তানজিদ যেন ঝড় তুললেন। চাপে থাকা তানজিদ ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৩ রান—৬টি ছক্কা আর ১টি চার। তার এই ইনিংসেই বাজে সিরিজকে মোড় ঘোরাল বাংলাদেশ। যা শেষ পর্যন্ত সিরিজ জয়ে রূপ নেয়—গর্ব আর গর্জনে কাঁপে প্রেমাদাসা।